What Muslims should do

তাঁর পতন খুব মন্দভাবে না-ও হতে পারে।
কিন্তু তিনি যে ভাবমূর্তি প্রদর্শন করে চলেছেন সেটা মোদী টাইপের নেতাদের থেকে মোটেও খুব বেশি ভালো না।
“ফ্রান্সের সাথে সাথে দক্ষিণ এশিয়াতে এই দেশটির দোসররা ভয়াবহ সব কর্মকান্ড নিয়ে এগুচ্ছে।” আমাদের মুসলিম নেতারা আমাদেরকে এই মেসেজটি দিয়ে চলেছেন। অবশ্য এই সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে থেকেও অনেক নেতা একই রকম বিপদের কথা শোনাচ্ছেন। অথচ এই শয়তানদের ফাঁদ সম্পর্কে এই লিডাররা যা বোঝাতে চাইছেন তার চেয়ে অনেক অনেক ভয়ংকর অবস্থা চলছে। সত্যি ভয়ংকর রকমভাবে ভয়ংকর !

জুলিয়েন বেন্দা একজন ফরাসি দার্শনিক ও ঔপন্যাসিক। একশো বছর আগের এই সুগভীর চিন্তকের ভবিষ্যৎ আশংকার কথা আমি শোনাতে চাইছি। তিনি আশংকা করেছিলেন, আমরা সবাই  একসাথে এককভাবে আর সত্যকে দেখার অবস্থায় থাকবো না। এটাকে তিনি বলছেন, সম্মিলিত অনুধাবন সংকট। আর এই সংকট ইউরোপে তো আছেই সাথে সাথে সারা বিশ্বের মানুষেরও আছে এবং ভবিষ্যতে তা প্রকট আকার ধারণ করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, পুরা বিশ্বে একসময়  সরাসরি পরাধীনতা ও মানসিক দখল থেকে মুক্তির আওয়াজ উঠবে। তবে এই ব্যাপারটা কিন্তু আশ্চর্যজনক নয়- সেই দখলদার অথচ সভ্যতার মুখোশ পরা দেশটি হবে ফ্রান্স! আমেরিকার আরেকজন সমাজ বিশারদ “রজার কিম্বল” সহ আরও অনেক গভীর প্রজ্ঞাবান দার্শনিক মহান বেন্দার সাথে একমত পোষণ করেন।

তো ঐসব হিপোক্রেটদের সম্পর্কে যা বলছিলাম, আমরা কিন্তু কোনোভাবেই এইসব মুখোশধারী নেতা এবং বুদ্ধিজীবীদের চিনতে পারছি না। বুঝতে পারছি না, কী বিভৎস রকমের পরিস্থিতিতে আমরা নিপতিত এখন। অথচ এরা আমাদের চোখ মূল বিষয় থেকে সরিয়ে দিতে ওস্তাদ। শুনে নিন, এই তথাকথিত জিন্নাবাদ, গান্ধীবাদ, মওদুদীবাদ, মোদিবাদ যাদেরকে অনুসরণ করে আমরা লাফালাফি করছি- এগুলা হলো ম্যাকেয়াভলি দর্শনের এক একটা মস্ত উদাহরণ। মেকিয়াভেলি সম্পর্কে আর কী বলবো! উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দেবতা অথবা অসুর যেকোনো রূপ ধারণ করাকে যিনি জায়েজ ব’লে ঠিক করে দিয়েছেন !

আর কামাল আতাতুর্কের অবশ্য কিছু ভালো দিক ছিল। এই ম্যাক্রন সাহেবের তা-ও নেই। এখানে নেপোলিয়নের সাথে ম্যাক্রনের চারিত্রিক মিল দেখুন।  নেপোলিয়ন কি ফরাসী বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন নাই? ১৭৯৮ সালে এই ভদ্রলোক মিশরে আক্রমণ করেছিলেন। আর রক্তচোষা ম্যাক্রোন? তিনি এবং তার ফরাসী নেতাগণ মুসলমান এবং  অন্যান্য জাতি ও জাতি রাষ্ট্রের সাথে সেটাই করে চলেছেন।
কিন্তু, হ্যা, সময় এখন নতুন আশার কথা বলছে। এই তো, কয়েক দশক পর অর্থাৎ একুশ শতকের শেষের দিকে কিন্তু ভিন্ন এক মুসলিম ডেমোগ্রাফ দেখবো আমরা। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনগণ তখন মুসলিম ব’লে দাবি করবে। এটাও অবশ্য সত্য, এই জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মুনাফিক থেকে যাবে !

মুসলিমদের আসলে কী করা উচিত তাহলে? আমাদের অবশ্যই নিজ গোষ্ঠীর প্রজ্ঞাবান অংশের সাথে যোগ দিয়ে অন্যান্য ধর্মীয় মতাদর্শের সচেতন  ভাই- বোনদের সাথে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে হবে। এই সচেতন অংশ হলো তাঁরা যারা বিশ্বের শিরা-উপশিরায় পবিত্র স্বর্গীয় ছোঁয়া অনুধাবন করতে পারেন। (ঠিক জুলিয়েন বেন্দা যে এককত্বের কথা বলেছিলেন।) আর প্রকৃত মুসলমানদের/ শান্তিবাদীদের ব্যাপারটাই আসলে এই- তাঁরা শারীরিকভাবে হোক আর আধ্যাতিক, দুই থেকে এরা কিন্তু নিপিড়ীত হবেন এবং তাদেরকে এক জায়গায় থাকতে  দেওয়া হবে না। এটা অতীতে যেমন ছিল, সাম্রাজ্যবাদীরা ভবিষ্যতেও তাদের উপর সেই একই চেষ্টা করবে।

লেখক পরিচিতি:
মাইমুল আহসান খান

আইন বিভাগের অধ্যাপক -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.