রূবাইয়াৎ-ই-জহীনী থেকে

আহত না হলে বাজে না রুবাব, বাজে না স্বরদ, বাজে না বীণা:
তাই কি তােমার আঘাতে আঘাতে মন – মৃদঙ্গ তৃপ্তিহীনা?
তুমিই বাদক, তুমিই সাধক, এ শিরী কালাম সে-ও কি তােমার?
তবু জেনে রেখাে – অসহ্য ঘায়ে মৃদঙ্গ হবে বাক্যহীনা ।

প্রিয়ারে আমার শুকরিয়া দিই; শান্ত ঘরের মন্ত্রণায়
আমারে কখনাে বন্দী করেনি গল্পগুজব সান্ত্বনায়; আগুনে পুড়িয়ে কঠিন জ্বালায় আমারে করেছে দীপ্ত শিখা;
সেই আলাে দিয়ে তােমারে চিনব – মিলাবে মিটাবে অন্তরায় ।

আকাশের কোন অবকাশ নেই, সমুদ্র শুধু শান্তিহীন;
চাঁদ সেতারার ঘূর্ণির গতি – লাটিম ঘুরানাে – শ্রান্তিহীন।
তবু তাে তাদের সান্ত্বনা মেলে – কেয়ামত তক দীপ্ত প্রাণ ।
আমাকে কেন এ ক্ষত লাঞ্ছনা – দুদিনে এ দেহ শক্তিহীন?

আকাশের আলাে অনাবিল জানি, সুন্দরী এই বসুন্ধরা,
এই তনু মন অযাচিত দান, এই কুহু স্বর মধুক্ষরা, তবু দিল তুমি সাহারা করেছ – ধূ ধূ করে বালু তৃপ্তিহীনঃ
এই কি তােমার রাজ্জাকী খােদা? – সাখাওয়াতী কই তৃষ্ণাহরা ?

কি হবে কাব্যে, ধ্বনি-নর্তনে !
কি হবে মায়ার কল্পলােকে ।
স্বপ্ন -শিথিল বাহু-বন্ধনে কল্পপ্রেয়সী সুপ্তলোকে। কি হবে শুধুই ইনিয়ে বিনিয়ে কথারে বানিয়ে ঘর-সাজানাে।
যদি না সে কথা স্নিগ্ধ দীপিত তোমার মুখের চন্দ্রালােকে ?

বাঁশী নয় কবি । ছবিও তাে নয় । গান নয় ।
এতাে কল্পনালােক
ছবিগান সুর ঝুরে ঝুরে হেথা রচেছে দীপিত স্বর্ণআলােক ।
হৃদয় এখানে পৃথিবী হয়েছে।
পৃথিবী অমর হৃদয়ালােকে,
বসুধা হৃদয় কবির হৃদয়ে এক হয়ে রচে অমর্ত্যলােক।

রূপ বাংলা

আলােচুপ। মেঘনিল । ভরাডুব দেশ।
বর্ষণ কর্ষিত । পাটশাড়ি বেশ ।
– বাংলা

থাড়াতাল প্রহরী
জামঘন কালােতল
ঝিরঝিরে বাঁশবন
গােধূলি
ঝাউগান রাতদিন
ঝােপঘন বেষ্টন সন্ধ্যা
ডুব ডুব দ্বীপ দ্বীপ বন্ধ্যা

  • বাংলা

এতগান যেন মনতান তারে সুর
ডাহুক ডুবুক দিনাত বুক ভর্তি সুর
ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে ও সুরের নূপুর মাঠে
বন্দনা গান সন্ধ্যামুখর ঘাটে ।
ঝিঁঝিঁ বনমনে দাদুরীও জপে বুকে
কোকিল হৃদয় কুহু-কম্পন-সুখে
দোয়েলের শিষে অনামা আশিষ ঝরে
জোনাকী সন্ধ্যা রূপসী লালিম ভােরে

ভরাগানমন ।
মেঘনীলদেশ
পাটশাড়ি সুর
বর্ষা

রূপ বাংলার
আলােকলিকুল
মন ডুব ডুব
বর্ষা

মেঘে রং। মনে রং। গলা ডুব বাংলা
ধানখুসি গানখুসি অকারণ বাংলা
– বাংলা ।

তথ্য সূত্র:
সকাল সৈয়দ আলী আশরাফ বিশেষ সংখ্যা
সম্পাদনা: ইশারফ হোসেন

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.