E+R=O

আজকের লেখাটি ফন্টিন স্যারকে নিয়ে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন কে এই ফন্টিন স্যার ? আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ায় রেদওয়ান ফন্টিন স্যার একজন রিভার্ট মুসলিম হিসেবে পরিচিত। স্যার একাধারে সুবক্তা, মোটিভেশনাল স্পীকার এবং লিডারশিপ ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট । যাই হোক মূল বিষয়ে ফিরি।

খুব সম্ভবত ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ তখন সামার সেমিস্টার চলছিল । এখানে বলে রাখা ভালো মালেয়শিয়ায় সারা বছর-ই প্রায় এক রকম আবহাওয়া থাকে। কখন সামার বা কখন ফল বুঝা একটু কষ্টকর । এই জন্য অনেকে চির গ্রীষ্মের দেশও বলে থাকে। আসলেই অসাধারণ আবহাওয়া। যাইহোক, আমি তখন মাস্টার্সের ছাত্র। হঠাৎ একদিন খাওয়ার টেবিলে শাহরিয়ার ভাই ফন্টিন স্যারকে নিয়ে কথা তুললেন, অনেক অনেক প্রশংসা করলেন। ভাইয়ের সুন্দর বর্ণনা শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। আমি বললাম, আমি স্যারের ক্লাসে এটেন্ড করতে চাই ভাই।

পরের সপ্তাহে স্যারের অনুমতি নিয়ে তার ক্লাসে হাজির হলাম । মনে মনে খুবই কৌতূহল ও উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। ইতোমধ্যে ক্লাসের সহপাঠিদের সাথে পরিচয় পর্বটা সেরে ফেলেছি; কাশ্মিরী, মালেয়শিয়ান, আফ্রিকান ও কিছু মধ্য এশিয়ান ছাত্র । সব মিলায়ে এক ডজন-ত হবেই । মিনিট পাঁচেক পরে স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলেন, সালাম দিলেন, সবাই কেমন আছে জিজ্ঞেস করলেন। প্রথম ক্লাস । কিছুটা নার্ভাস লাগছিল। এছাড়া আরেকটা ঝামেলায় পড়লাম, স্যার ফ্রেন্স দেশীয় মানুষ । তাই তার ইংরেজি উচ্চারণ ধরতে আমার বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল।

বাই দ্যা ওয়ে, ক্লাস চলছে বিষয় লিডারশীপ ম্যানেজমেন্ট। খুব মনযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি। স্যার ট্র্যাডিশনাল লিডারশীপ ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি ইসলামিক পার্সপেক্টিভও খুব সাবলীল ও সুচারু ভাবে উপস্থাপন করছেন। এক কথায় অসাধারণ বলা চলে । যেহেতু দীর্ঘ সময় ক্লাস চলে তাই বিরতির পালা। কিছু সময় বিরতি। স্যার এবার ম্যানেজমেন্টের একটা বিখ্যাত থিওরি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন । ভূমিকাতে স্যার সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, লিসেন, “THIS THEORY CAN BE USED IN EVERY ASPECTS OF YOUR LIFE” সহজ কথায় জীবনের পরতে পরতে এই থিওরিটা কাজে দিবে।

সবাই চুপ চাপ। স্যার হোয়াইট বোর্ডে মার্কার দিয়ে খস খস করে লিখছেন। চাপা একটা উত্তেজোনা ও কৌতূহল কাজ করছিল । স্যার এবার মুখ ফিরালেন, বোর্ডের উপর লেখাটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তিনটি ইংরেজি লেটার E+R=O । ইংরেজি বর্ণমালার এই তিনটি লেটার-ই নাকি বিখ্যাত থিওরি। চলেন দেখি এই তিন লেটারের মধ্যে কি নিহিত আছে। স্যার তাফসির করা শুরু করলেন এভাবে, E(Event)+R (Response)= O (Outcome)। আমরা তখনও বুঝিনি এটা কেমন বিখ্যাত থিওরি ! স্যার একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন । ধরো, আজকের এই ‘ক্লাসটি’ হল একটা ‘ঘটনা’ (ইভেন্ট), আর তুমি যদি এই ক্লাসটিকে(পজিটিভ) ইতিবাচক ভাবে ‘রিসপনস’ (মনযোগী হও, লেকচার নোট করো, যা যা করা দরকার) কর তাহলে ভালো ফলাফল (আউট কাম) পাবে। আবার, তুমি যদি ক্লাসটি (নেগেটিভলি)নেতিবাচক ভাবে রিসপনস করো তাহলে ফলাফলও খারাপ হবে।

যারা এখনও বুঝেন নাই তাদের জন্য আরেকটা উদাহরণ দিলে খারাপ হয়না। ধরেন রাকিব একজন অনার্স পরীক্ষার্থী । সামনে কয়েক মাস পরেই ফাইনাল এক্সাম। এখানে এক্সাম হল একটা ইভেন্ট। রাকিব যদি ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয় (পজেটিভলি রিসপনস) করে তাহলে রাকিব ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারবে(আউট কাম)। অপরদিকে, রাকিব যদি অমনোযোগী ও সময় নষ্ট করে (নেগেটিভলি) প্রস্তুতি নেয় তাহলে ফলাফলও খারাপ হবে । একেবারে সহজ সূত্র –
ANY EVENT + POSITIVE RESPONSE= POSITIVE OUTCOME
ANY EVENT + NEGATIVE RESPONSE = NEGATIVE OUTCOME
ঠিক একইভাবে, আপনার আমার জীবনের প্রতিটি বিষয় এই সূত্র দিয়ে সমাধান করা সম্ভব। হোক সেটা পারিবারিক অথবা একাডেমিক অথবা প্রাতিষ্ঠানিক।

শেষ করতে চাই পজিটিভ থিংকিং এর উপর একটি গবেষনা রিপোর্ট দিয়ে । গবেষনায় বলা হয়েছে যে, কেউ যদি পজিটিভ চিন্তা (POSITIVE THINKING) করে সাথে সাথে তার পুরো শরীরে এক ধরনের পজিটিভ পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। বিপরীতে, কেউ যদি নেগেটিভ চিন্তা (NEGATIVE THINKING) করে সাথে সাথে তার গোটা শরীরে একধরণের নেগেটিভ জিনিস ছড়িয়ে পড়ে। তাই আসুন আমাদের প্রত্যাহিক জীবনের ঘটনা গুলোকে পজিটিভ ভাবে গ্রহণ করি।পবিত্র কুরআনের সূরা মূকল’কে আল্লাহ তা’য়ালা একই বক্তব্য দিয়েছেন, “আমরা জীবন-মরণ সৃষ্টি করেছি এটা দেখার জন্য কে বেস্ট এপ্রোস (ভালো পজিটিভ আমল) করে।”

তথ্য সুত্রঃ
১। আল- কুরআন।
২। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদকীয়
৩।ডঃ রেদওয়ান ফন্টিন,
লিডারশীপ ম্যানেজমেন্ট: ইসলামিক পার্সপেক্টিভ ।

লেখক পরিচিতি:
আতিক মুজাহিদ
পিএইচডি গবেষক,
মালয়েশিয়া

সহ সম্পাদক ,পুনরুত্থান ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.