নারীবাদী ধর্মতত্ত্বের (Feminist Theology) উপর বিংশ শতাব্দীর সূচনা থেকেই কাজ চলছে। তবে এই নামে আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের সূচনা হয় ষাটের দশকে, যখন আমেরিকান ফেমিনিস্ট থিওলজিয়ান ভ্যালেরি সেভিং (Valerie Saiving) এর “দি হিউম্যান সিচুয়েশন এ ফেমিনিন ভিউ” নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। নিবন্ধখানায়, পাপ এবং পরিত্রাণের খ্রিস্টান ধারণাটিকে শক্ত সমালোচনার মুখোমুখি করা হয় এবং দাবি করা হয় যে, সমস্ত ধর্মতত্ত্ব পুরুষদের দ্বারা লিখিত টেক্সটের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্বারা নারীদের নিপীড়ন এবং নিগ্রহের পথকে সুগম করে। এরপর মেরি ডালি (Mary Daly) এবং জুডিথ প্লাস্কো (Judith Plaskow) এর মতো অন্যান্য অনেক ফেমিনিস্ট স্কলার ধর্মের সমালোচনা করার জন্য এই ধারণাকে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে, ধর্মীয় টেক্সটসমূহে এই জাতীয় উপাদান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় যা লিঙ্গীয় মতাদর্শের পক্ষে যুক্তি সরবরাহ করে। এবং সেই সাথে, ধর্মীয় ধারণাসমূহের নারীবাদী ব্যাখ্যা করতে যেয়ে সংস্কারের নামে বিকৃতি ও পরিবর্তনের সূত্রপাৎ ঘটে। [১]

নারীবাদী ধর্মতত্ত্ব আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হলো হিন্দুধর্ম, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি ধর্ম এবং ইসলামের ঐতিহ্য, ধারা, ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মতত্ত্বকে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে ব্যবহার করা। এছাড়া এর উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিত্বদের মধ্যে নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধি করা। এবং ধর্মীয় টেক্সটগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা, যাতে সেগুলোতে বিবৃত নারী চরিত্রটি উচ্চকিত হয় এবং ঈশ্বরের পুরুষ-ধারণাটি নারী ধারণায় রূপান্তরিত হয়।[২]

নারী ঈশ্বরের সন্ধান :

সেকেন্ড ভিউ ফেমিনিজমের সময়, নারীবাদী ধর্মতত্ত্ব আন্দোলন আমেরিকা এবং ইউরোপের নারীদেরকে ধর্মীয় গ্রন্থ ও ঐতিহ্যে পাওয়া নারী প্রতীকগুলিকে ফেমিনিজমের পক্ষে ব্যবহার করতে আকৃষ্ট করেছিল। নারীবাদী বিশ্লেষণসমূহের সময় নারীরা সেসব ধর্মের প্রতি বিশেষ আগ্রহ বোধ করে, যেসবে নারী ঈশ্বরের (দেবী) ধারণা পাওয়া যায়। এই নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ‘দেবী আন্দোলন বা Goddess movement’ নামেও তাদের ধ্যান-ধারণার প্রচার করেছে। আজও, পশ্চিমে এমন অনেক লোক রয়েছে, যারা খ্রিস্টান এবং ইহুদি ধর্মের মধ্যে দেবীর ধারণাকে (goddess imagery) একীভূত করার চেষ্টা করে। [৩]

সত্তরের দশকের শেষ এবং আশির দশকের গোড়ার দিকে নারীবাদী প্রত্নতত্ত্ব (Feminist Archaeology) বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাচীন সমাজের যৌন এবং লিঙ্গীয় অনুঘটক এবং প্রতীকগুলোকে নারীসুলভ ব্যাখ্যা করা ছিল যার প্রকল্প। ফেমিনিস্ট চিন্তার পোষকতায়, অতীতের সাংস্কৃতিক অবস্থা, যৌন চরিত্র, দেব-দেবীর পূজার বিশ্লেষণপূর্বক এমন বয়ান হাজির করা হয়, যাতে করে বর্তমান যুগে নারীর ক্ষমতা ও দৃশ্যমানতায় (visibility) বৃদ্ধিসাধিত হয়।[৪]

ফেমিনিস্ট নারীরা দেবী কেন চান?

ক্যারল পি. খ্রিস্ট (Carol P. Christ) ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি সান্তা ক্রুজের একটি কনফারেন্সে ‘নারীদের কেন দেবী প্রয়োজন’ (Why Women Need the Goddess) শীর্ষক রচনা উপস্থাপনকালে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। যেমন, বর্তমানে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং ঈশ্বরের লিঙ্গ নিয়ে গবেষণা করছেন এমন নারীবাদী নারীদের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কী? নারীবাদে আধ্যাত্মিক দিকের এই যাত্রার লক্ষ্য কি রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে পলায়নের পথ অনুসন্ধান? নাকি নারীর মধ্যে দেবী প্রতীকের অবয়ব তুলে ধরে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাতন্ত্র্য অর্জন?

তারপর প্রাগুক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর দিয়ে, তিনি বলেন, দেবীর প্রতীক নারী স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতার ন্যায্যতা সরবরাহ করে এবং এই প্রতীকের অর্থ এত সহজবোধ্য যে, সবাই এটিকে ভালভাবে বুঝতে পারার কথা স্বীকার করে। একজন নারী যখন, ফেমিনিস্ট নাট্যকার আন্তা জাকি শাঙ্গের (Ntosake Shange) সংলাপটি আবৃত্তি করেন, যে, ‘আমি নিজের মধ্যে ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছি এবং আমি তাকে অপরিসীম ভালোবাসি।’ তখন সে যেন বলছে– নারীর শক্তি ঈশ্বরের মতো দৈব, শক্তিশালী, চিরস্থায়ী এবং সৃষ্টিশীল, পুরুষকে ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখার তার প্রয়োজন নেই। নারীর ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের এই ধারণাটি প্রাচীন দেবীর মূর্তি ও প্রতীকসমূহ দেখে উদ্ভূত হয়েছে এবং তারা মনে করে যে, এই ধারণাটি প্রচার করা খুবই সহজ, কারণ মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় প্রতীকগুলোর উপলব্ধি আগ থেকেই পাওয়া যায়। অন্যান্য ফেমেনিস্ট ঔপন্যাসিক ও লেখকরাও দেবী প্রতীক’কে নারীর সৌন্দর্য, ইচ্ছা, পছন্দ, মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সত্যায়ন হিসেবে নতুন করে উজ্জীবিত করছেন। [৫]

প্রাচীন উপাখ্যানে নারী ঈশ্বরের চিহ্ন :

ফেমিনিস্ট বিশেষজ্ঞদের জন্য, সে-সব প্রাচীন ধর্মসমূহ, মিথ, গল্প, কাহিনী এবং ঐতিহ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের দাবিদার; যে-সবে ঈশ্বরের নারীসুলভ ধারণা পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন গ্রিসে, জমিনকে সমস্ত কিছুর স্রষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হত এবং তারা একে দেবী ধরিত্রী মাতা (Eorthe) বলে ডাকত। প্রাচীন রোমেও এটিকে প্রকৃতির উত্পাদনশীলতার প্রতীক জ্ঞান করা হত। পরবর্তীতে, এই পরিভাষাটির সাথে দার্শনিক ধারণাগুলোও যুক্ত হয়, এবং যখন এটি ল্যাটিন এবং ইংরেজিতে শামিল হয়, তখন এটিকে আর্থ নেচার (Earth Nature) অভিহিত করা হয়। মধ্যযুগীয় খ্রিস্টানরা একে দেবী মনে করেনি, তবে তারা এটাকে ধরিত্রী মাতা রূপে প্রকৃতির একটি প্রকাশ বলে মনে করেছিল, যার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে জীবন দান এবং এর রক্ষণা-বেক্ষণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৬]

আমেরিকার প্রাচীন মিথলজিতে, একে উর্বরতা এবং জন্মের দেবী, মাদার আর্থ, মাদার ইউনিভার্স, (Pachamama, Mother Earth /Universe) বলা হয়েছে। সত্তরের দশকে আমেরিকায় মাদার নেচার পরিভাষাটি টিভি বিজ্ঞাপন, নাটক, চলচ্চিত্র, গান এবং পপুলার কালচারে ব্যবহার করা হয় এবং এখন জাতিসংঘ কর্তৃক ২২ এপ্রিল ‘মাদার আর্থ ডে’ (Mother Earth Day) পালিত হয়। যার উদ্দেশ্য সাধারণত ‘পরিবেশ সুরক্ষা’ উল্লেখ করা হয়, কিন্তু বাস্তবে ধারণাটি মাদার ইউনিভার্স থেকেই উদ্ভূত।[৭]

হিন্দুদের মধ্যে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা খোদার (মহাবিশ্বের নিরঙ্কুশ এবং পরম নীতি) ধারণা লিঙ্গহীন (genderless) বিশ্বাস করা হয়, তবে কিছু হিন্দু সূত্রে এটি পুরুষ এবং স্ত্রী হিসেবেও বিবেচিত হয়। শক্তি সূত্রে, ঈশ্বরকে স্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভক্তি সূত্রে, ছোট দেবতারা (দেবতা, দেবী) নারী ও পুরুষ উভয় রূপে রয়েছে এবং হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ ঋগ্বেদে স্থানে-স্থানে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। হিন্দুধর্ম ছাড়াও, অনেক বহু ঈশ্বরবাদী ধর্মেও দেব-দেবীর পূজা করা হয় এবং দেবীকে প্রেম, সৌন্দর্য, যৌনতা, প্রসূতি, সৃজনশীলতা, উর্বরতা এবং মাতৃত্বের গুণাবলীর সাথে যুক্ত করা হয়। প্রাচীন মিশর, আফ্রিকা, গ্রীস, রোম, চীন, ল্যাটিন আমেরিকা, ইরান এবং হিন্দুস্তানে জন্ম, প্রসূতি, মৃত্যু, পৃথিবী, আকাশ, বৃষ্টি, ঝড়, আগুন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সম্পদ, প্রেম, সঙ্গীত, কবিতা, শিকার, শস্য মোটকথা প্রতিটি কাজের জন্য কোনো না কোনো দেবীকে মান্য করা হত এবং এই সিলসিলা আজও অব্যাহত রয়েছে।[৮] শিখ ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বরের জন্য পুরুষবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তাকে লিঙ্গ ছাড়াই বিবেচনা করা হয়। বাহাই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাহা উল্লাহ, ঈশ্বরের জন্য মায়ের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করতেন এবং তার দাবি ছিল, ঈশ্বরের মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি শব্দ মাতৃত্বসূলভ কথার উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। বাহাই বিশ্বাসে, ঈশ্বরের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের (will of God) অবয়বকে স্বর্গের দুহিতা (maid of heaven) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।[৯]

সমস্ত আব্রাহামিক ধর্মের টেক্সটগুলো ঈশ্বরকে একটি চিরন্তন সত্ত্বা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। মানুষ বা কোনো প্রাণীর সাথে যার কোনো তুলনা হতে পারে না। ঈশ্বরের ঐশ্বরিক ক্ষমতার জন্য পুরুষবাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু এর কোনো লৈঙ্গিক ব্যাখ্যা করা হয় না৷ ফেমিনিস্ট ধর্মতত্ত্বের আসল লক্ষ্য এই আব্রাহামিক ধর্মগুলো। এবং এটি নারীবাদী ব্যাখ্যা ও ভাষ্যের মাধ্যমে সেই শিক্ষাধারাকে পরিবর্তন করতে চায়, যাতে ঈশ্বরের জন্য পুরুষবাচক সর্বনামের ব্যবহার করা হয়েছে। বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের মধ্যে ঈশ্বরের জন্য ‘পিতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু নারীবাদী পণ্ডিতরা খ্রিস্টান এবং ইহুদি ধর্মীয় লিটারেচার থেকে এমন রেফারেন্সগুলোর অনুসন্ধান করে, যা তাদের মতে, নারীপ্রতীকের তরজমানি করতে পারে। [১০]

ইহুদি ফেমিনিজম (Jewish Feminism)

ইহুদি ফেমিনিজম হলো নারীবাদী ধর্মতত্ত্বের একটি উপ-আন্দোলন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইহুদি নারীদের সে-সব বুনিয়াদি ধর্মীয় বিধি-বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়া; যা তাদের সাক্ষ্য এবং তালাক দানে বাধা প্রদান করে। এর লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ইহুদি নারীদের ধর্মীয়, আইনগত এবং সামাজিক মর্যাদাকে ইহুদি পুরুষদের সমমান করা এবং পুরুষ উপাসকগোষ্ঠী থেকে পৃথক করাও শামিল ছিল।[১১]

ইহুদি নারীবাদী মতাদর্শ এই ধারণাকে প্রচার করে যে, ইহুদি ধর্মীয় আচারগুলিতে ঈশ্বরের নারীসুলভ গুণাবলী এবং নারীবাচক শব্দাবলীর উপর জোর দেওয়া উচিত। ইহুদি ধর্মের পুনর্গঠন-প্রত্যাশী আধুনিক নারী স্কলার রেবেকা অ্যালার্ট (Rebecca Alpert) ১৯৭৬ সালে বলেছিল যে, ঈশ্বরের দিকে নির্দেশকারী নারী সর্বনাম এবং প্রথম প্রকাশিত ইহুদি প্রার্থনার সচিত্র বইটি ঈশ্বরের সাথে আমার সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে। এখন আমার বুঝে এসেছে ঈশ্বরের ছবি বানানোর উপকারিতা। ঈশ্বরকে আমি যখন আমার নিজের মতো সুন্দর নারী দেহ, স্তন ও যোনির সাথে দেখলাম, তখন বুঝলাম একজন নারীর মধ্যে জন্মদান এবং লালন-পালন করার ক্ষমতা কতটুকু। হাজার হাজার বছর ধরে শুধুমাত্র পুরুষেরা যে অনুভূতি এবং ইমপ্রেশনে অ্যাক্সেস পেয়েছিল, আজ তার নাগাল পেয়ে আমি সানন্দিত বিস্ময় অনুভব করছি। এরপর, আরও বেশ কিছু নারী রেবাঈ এ ধরনের লেখা লিখেছেন। [১২]

উদারপন্থী ইহুদি ফেমিনিস্ট নারীদের মতানুসারে ঈশ্বরের জন্য পুরুষ বা স্ত্রী সর্বনাম ব্যবহারে কিছুমাত্র আসে যায় না। কিন্তু রক্ষণশীল এবং লিবারেল ইহুদি উভয়ের নিকট ঈশ্বরের জন্য নারী সর্বনামের ব্যবহার অত্যন্ত ভুল। ২০১৫ সালে, আমেরিকায় সংস্কারপন্থী ইহুদিরা তাদের প্রার্থনা বই প্রকাশ করে, যেখানে ঈশ্বরের জন্য পুরুষ এবং নারী উভয় সর্বনাম ব্যবহারপূর্বক তাঁকে ‘একজন প্রেমময় পিতা’ এবং ‘একজন মমতাময়ী মা’ হিসেবে হাজির করা হয়। [১৩]

মডারেট ইহুদিদের মধ্যে নারীরা স্বাধীনতা পেয়ে আসছে শুরু থেকেই এবং পুরুষসূলভ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করছে। Humanistic Judaism তথা মানবতাবাদী ইহুদিবাদে শুধুমাত্র ইহুদি রীতি-নীতি, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় উত্সবাদি গৃহীত হয়, কিন্তু ধর্মীয় পাঠ্য এবং উপাসনার উপর জোর দেয়া হয় না। বিপরীতে, অর্থোডক্স বা রক্ষণশীল ইহুদিবাদে নারীমুক্তির কোনো ধারণা নেই। তাদের এখানে উপাসনার জন্য নারী ও পুরুষের বিভাগ আলাদা হত এবং নারীদের প্রার্থনার নেতৃত্ব দেওয়ার অনুমতি ছিল না। রক্ষণশীল ইহুদিদের ভেতর নারীবাদী আন্দোলনের উদ্দেশ্য নারীকেন্দ্রিক বিষয়াশয়ের উপর অধিক যত্নশীল হওয়া এবং নারীদের শিক্ষা, নেতৃত্ব এবং উপাসনালয়কে নারীদের জন্য আরও উপযোগী করে তোলার ওপর জোর দেওয়া। ২০০২ সালে, একটি অংশীদারি প্রার্থনা দল গঠিত হয়, যার অধীনে জেরুজালেমে একজন নারী–শিরা হাদাশা (Shira Hadasha) এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে দারখেই নোয়াম (Darkhei Noam) উপাসনায় নেতৃত্ব দেয়। [১৪]

২০০৯ সালে, রাব্বা সারা হুরউইটজ (Rabba Sara Hurwitz) প্রথম মহিলা অর্থোডক্স ইহুদি নিয়োগকর্তা হন। এরপর রেবাঈ পদে নারী নিয়োগের জন্য একটি ট্রেনিং স্কুল চালু করা হয়। ২০১৩ সালে, এর প্রথম ব্যাচ স্নাতক লাভ করে, যাদের ‘রাব্বি’ খেতাব দেয়া হয় এবং Tamar Frankiel ক্যালিফোর্নিয়ার ইহুদি ধর্মীয় অ্যাকাডেমির প্রথম নারী সভাপতি হন৷ [১৫]

ইসরায়েলে নারীবাদী কার্যকলাপ শুরু থেকে এখন অব্দি একটি জটিল সমস্যা হয়ে বিরাজমান। পশ্চিম থেকে আগত স্যেকুলার নারীদের অধিকার ও সমতার ইস্যুগুলো পশ্চিমের স্টাইলে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু আরব জনপদের জন্য, নারী অধিকারের বিষয়টি ফিলিস্তিনের ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের অবস্থান সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা এবং প্যালেস্টাইন-সহানুভূতি। রক্ষণশীল ইহুদি নারীদের অধিকার সম্পর্কিত ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তগুলো সম্প্রতিই সামনে এসেছে।

১৯৪৭ সালে, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময়, প্রথম প্রধানমন্ত্রী, ডেভিড বেন-গুরিয়ন (David Ben-Gurion) সম্মত হয়েছিলেন যে, বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের সমস্ত ক্ষমতা ইসরায়েলের প্রধান রাব্বির হাতে থাকবে এবং পরে তার পার্লামেন্ট একটি আইনে সেই এক্তিয়ার ও ক্ষমতার সত্যায়নপূর্বক, রেবাঈ আদালত প্রতিষ্ঠা করে, যেটি ইহুদি ধর্ম অনুসারে বিবাহ এবং বিবাহ-বিচ্ছেদের বিষয়গুলো পরিচালনা করে। ১৯৬৯ সালে, গোল্ডা মেইর (Golda Meir) ইসরায়েলের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, কিন্তু সেই সময় সংসদে নারীদের সংখ্যা ছিল সাত শতাংশেরও কম। ১৯৭২ সালে, ইস্রায়েলে রেডিক্যাল উইমেন মুভমেন্টের সূচনা হয়। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত, ইস্রায়েলে নারীদের যুদ্ধ, সিভিল প্রশাসন এবং সামরিক নেতৃত্বে অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল না। অবশ্য অন্যান্য বিষয়ে, নারীদের অন্তর্ভুক্তি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে বিদ্যমান ছিল।[১৬]

২০০৬ সালে, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, সমবেদনা এবং অন্যান্য বিষয়ে নারীদের লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হওয়া উচিত নয়। কিন্তু ২০১২ সাল পর্যন্ত, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আদালতের উক্ত রায়কে পুরোপুরি আমলে নেয়নি। ২০১৩ সালে, পুরুষ এবং নারীদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ নির্ধারণ করা হয়, এবং নারীদের ধর্মীয় আদালত সমূহে জজ এবং আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচার ও উপাসনার স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হয়। ২০১৫ সালে, নারীদের জন্য পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে, হেরেদি (Haredi) নারীদের জন্য প্রথম রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। একই বছরে, ইসরায়েলি যায়নবাদী ধর্মীয় সংগঠন বার অ্যাসোসিয়েশনের সাথে চুক্তি করে যে, তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে তার প্রাক্তন স্ত্রীর জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে। ২০১৬ সালে, কারমিত ফেইন্টুচ (Karmit Feintuch) অর্থোডক্স উপাসনালয়ের (synagogue) প্রথম নারী পরিচালক হন।[১৭]

বরাত :
১. Goldstein, Valerie, Saving (1960) “The Human Situation: A Feminine View”. Retrieved from cenga/courses/gsr/s1/Saiving_Article.pdf

২. “What is Feminist Theology?” Retrieved from os://voicesofsophia.wordpress.com/what- is-feminist-theology

৩. “The Goddess movement”. Retrieved from ons/paganism/subdivisions/goddess.shtml

৪. Conkey, Margaret, W. (2003) “Has Feminism Changed 99 Archaeology?” . Retrieved from /www.jstor.org/stable/10.1086/345322? seq=1

৫. Christ, Carol P. (1978) “Why Women Need the Goddess”. Retrieved from s/Christ_WhyWomenNeedGoddess.pdf

৬. Leeming, David, A. (2010) [vi] 66 “Creation Myths of the World” An Encyclopedia. Retrieved from https://books.google.com.pk/books? 8&redir_esc=y#v=onepage&q&f=false

৭. “It s not nice to fool Mother Nature” (2015). Retrieved from //www.thisdayinquotes.com/2010/06/its- not-nice-to-fool-mother-nature.html

৮. Morales, Frank. “The Concept of Shakti: Hinduism as a Lierating Force for Women”. Retrieved from m_as_a_liberating_force_for_women_1- 18-2005.htm

৯. Drewek, A. Paula (1992) “Feminine Forms of the Divine in 99 Baha I Scriptures” . Retrieved from https://bahai-rary.com/drewek_feminine_forms divine

১০. Pagels, H. Elaine (1079) “What Became of God the Mother?”. Retrieved from

https://www.womenpriests.org/what- became-of-god-the-mother- conflicting-images-of-god-in-early- /christianity-elaine-h-pagels

১১. Hyman, Dr., Paula. “American Jewish Feminism: Beginnings”. Retrieved from .myjewishlearning.com/article/american- /jewish-feminism-beginnings

১২. Alpert, Rebecca, T. (1991) “Our Lives are the Text: Exploring Jewish Women s Rituals” . Retrieved from https://www.jstor.org/stable/40358688? seq=1

১৩. Wilensky, David, A.M. (2015) “Gates of Repentance replacement 99 advances Reform trends” Retrieved from s://www.jweekly.com/2015/03/27/gates- of-repentance-replacement-advances- reform-trends

১৪. Bowen, Por Alison (2007) “Leaders Lift Spirit in Orthodox Women s Section”. Retrieved from ps://womensenews.org/2007/07/leaders- lift-spirit-in-orthodox-womens- /section

১৫. Orthodox women, a first Jewish Journal. Retrieved from shjournal.com/mobile_20111212/112061

১৬. Herzog, Hanna. “Feminism in Contemporary Israel”. Retrieved from //jwa.org/encyclopedia/article/feminism- in-contemporary-israel

১৭. Schhultz, Rachael Gelfman. “Civil Marriage in Israel”. Retrieved from www.myjewishlearning.com/article/civil- /marriage-in-israel

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.